কিভাবে কাটবে আমাদের রমজান (২য় কিস্তি)

اَلصَّدَقَةُ (দান-খয়রাত করা)
রমজান মাসের আরেকটি ইবাদত হলো ‘ছাদাকাহ করা’ (অর্থাৎ ফিতরা এবং অন্যান্য নফল ছাদাকাহ প্রদান করা)
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ فَلَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنْ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ
অর্থ: “আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমজানে তিনি আরো বেশী দানশীল হতেন, যখন জিবরাঈল (আ:) তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন। আর রমজানের প্রতি রাতেই জিবরাঈল (আ:) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই রাসূল্লাহ (সা:) (বসন্ত মৌসুমে প্রবাহিত প্রথম বাতাস) রহমতের বাতাস থেকেও অধিক দানশীল ছিলেন।”

উল্লেখ্য যে, এই হাদীসে ইবনে আব্বাস (রা:) রাসূলুল্লাহ (সা:) এর দানশীলতাকে এমন একটি উপমা দিলেন যা পৃথিবীতে বিরল। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা:) এর দানশীলতাকে বসন্ত মৌসুমের প্রথমে যে বাতাস প্রবাহিত হয় তার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার কারণ হচ্ছে ঐ বাতাসের মধ্যে তিনটি গুন থাকে। এক: ঐ বাতাসের মাধ্যমে গাছ-পালা, তরু-লতা, পশু-পক্ষী সহ সকল সৃষ্টিই ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়। দুই: ঐ বাতাসের প্রভাবে গাছ-পালা, তরু-লতা সহ সকল কিছুতে খুব দ্রুত পরিবর্তন ও সজীবতা ফিরে আসে। তিন: যেসব গাছ-গাছালি, তরু-লতা ইত্যাদি মৃত্যুর দারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল তারা আবার নতুন জীবন লাভ করে।
اِفْطَارُ الصَّائِمِ
(সিয়ামপালনকারীদের ইফতার করানো)
রমজান মাসে আরেকটি ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হলো সিয়াম পালনকারীদের কে ইফতার করানো। হাদীসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْتَقِصَ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا
অর্থ: “জায়েদ ইবনে খালেদ জুহানী (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন সায়েমকে ইফতার করালো সে ব্যক্তি উক্ত সায়েমের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। এতে সায়েমের সওয়াবে কোন ঘাটতি হবে না।”

اَلْاِجْتِهَادُ فِيْ تِلَاوَةِ الْقُرْانَ
(বেশী বেশী কুরআন তেলাওয়াত করা)
রমজানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হচ্ছে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা। কেননা এমাসেই কুরআনুল কারিম নাজিল করা হয়েছে। মূলত: কুরআন নাজিলের কারণেই এ মাসের এত বড় মর্যাদা। নতুবা পৃথিবীর ইতিহাসে কত রমজান এলো আর গেল কেউ তার খবরও রাখে নাই কিন্তু কুরআন নাজিলের পর থেকে এ মাসের মর্যাদা বেড়ে যায়। ইরশাদ হচ্ছে:
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ.
অর্থ: “রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে।” (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)

অবশ্য কিছু কিছু হাদীস দ্বারা জানা যায় যে অন্যান্য আসমানী কিতাবও রমজান মাসে নাজিল করা হয়েছিল। তাফসীরে ইবনে কাসিরে এই আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন।
عن واثلة -يعني ابن الأسقع أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أنزلت صُحُف إبراهيم في أول ليلة من رمضان وأنزلت التوراة لسِتٍّ مَضَين من رمضان والإنجيل لثلاث عَشَرَةَ خلت من رمضان وأنزل الله القرآن لأربع وعشرين خلت من رمضان وقد روي من حديث جابر بن عبد الله وفيه: أن الزبور أنزل لثنتَي عشرة ليلة خلت من رمضان
অর্থ: “ওয়াসিলা ইবনে আসকা’আ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেছেনঃ ইবরাহিম (আ:) এর সহিফাসমূহ রমজানের প্রথম রাতে, মূসা (আ:) এর তাওরাত রমজানের ষষ্ঠ তারিখে, ঈসা (আ:) এর ইঞ্জিল রমজানের তের তারিখে এবং কুরআনুল কারীম রমজানের চব্বিশ তারিখে নাজিল হয়েছে। জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে আরো বলা হয়েছে দাউদ (আ:) এর যাবুর নাজিল হয়েছিল বারই রমজানের রাতে।”

রাসূলুল্লাহ (সা:) নিজেও রমজান মাসে বেশী বেশী কুরআন তিলাওয়াত করতেন। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ فَلَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنْ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ
অর্থ: “আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ (সা:) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমজানে তিনি আরো বেশী দানশীল হতেন, যখন জিবরাঈল (আ:) তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন। আর রমজানের প্রতি রাতেই জিবরাঈল (আ:) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে উপরুক্ত আমল সমুহ যথাযথ ভাবে পালন করার তাওফিক দান করো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slieder

Featured Posts
May 2018
M T W T F S S
    Jun »
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
সর্বসত্ত্ব সত্বাধীকারী- শায়খ আফতাব উদ্দিন ফারুক Ⓒ