সাদকাহ করলে নিজের লাভ : জানুন কুরআন ও হাদিস থেকে

সাদকাহ করলে নিজের লাভ

عَنْ أبِيْ هُرَيْرَةَ- رَضِيَ اللهُ عَنْهُ- قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ – صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ : كُلُّ سُلامى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ، كُلُّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيْهِ الشَّمْسُ تَعْدِلُ بَيْنَ الْاِثْنَيْنِ صَدَقَةٌ، وَتُعِيْنُ الرَّجُلَ فِيْ دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهِا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ، وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ خُطْوَةٍ تَمْشِيْهَا إلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ، وَتُمِيْطُ الْأذى عَنِ الطَّرِيْقِ صَدَقَةٌ. رواه البخاري(২৫০৮) ومسلم(১৬৭৭)

‘আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন—মানব জাতির প্রতিটি হাড়ের মোকাবেলায় সদকা ধার্য করা আছে। প্রতিদিন, যাতে সূর্য উদিত হয়, দুজনের মাঝে সুষ্ঠু মীমাংসা করা সদকা। যানবাহনে আরোহণকালীন কাউকে সাহায্য করা সদকা—যেমন কাউকে যানবাহনে উঠিয়ে দেয়া বা কোন জিনিস যানবাহনে উঠাতে সাহায্য করা। কল্যাণ মূলক কথা বলা সদকা। নামাজে আসতে প্রতিটি কদমে কদমে সদকা। রাস্তা হতে কষ্টদায়ক কোনো জিনিস হটানো সদকা।’[বোখারি : ২৫০৮, মুসলিম : ১৬৭৭]

হাদিসের তাৎপর্য ও শিক্ষা

১. আমাদের উপর রয়েছে আল¬াহ তাআলার অসংখ্য ও বে-হিসাব নেয়ামত। আল¬াহ তাআলা আমাদের অস্তিত্ব দান করেছেন। সুচারুরূপে সুবিন্যস্ত করেছেন আমাদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। সৃষ্টি করেছেন আমাদের সুন্দরতম আকৃতিতে—এগুলো সন্দেহ নেই, এক বড় নেয়ামত। আল¬াহ তাআলা বলেন :—

وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ. 
‘যে সমস্ত নেয়ামত তোমাদের নিকট আছে সব আল¬াহ তাআলার পক্ষ হতে।’ [নাহল : ৫৩]
অন্যত্র বলেন—

يَا أَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ. الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ. فِي أَيِّ صُورَةٍ مَا شَاءَ رَكَّبَكَ

‘হে মানব ! কীসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল ? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন, এবং তিনিই তোমাকে তার ইচ্ছামত আকৃতিতে গঠন করেছেন’। [আল-ইনফেতার : ৫-৮]
২. রাসূল সা. আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন—অস্থিসমূহের সুবিন্যস্ততা এবং ত্র“টি মুক্ত হওয়া আল¬াহ তাআলার অনেক বড় নেয়ামত। তাই প্রতি হাড়ের জন্য আল¬াহ তাআলার শুকরিয়া স্বরূপ মানুষের সদকা করা জরুরি। আল¬াহ তাআলা বলেন—

قُلْ هُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ.

‘বলুন, তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ [আল-মুলক : ২৩]
আরো বলেন—

وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ.

‘আল¬াহ তাআলা তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ করেছেন। তোমরা কিছুই অবগত ছিলে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু অন্তর প্রদান করেছেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ [আন-নাহাল : ৭৮]
৩. অত্র হাদিসে রাসূল সা. বর্ণনা করেছেন—বনী আদমের কর্তব্য সদকার মাধ্যমে স্বীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিনিময়ে প্রত্যহ আল¬াহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করা। হাদিসে বর্ণিত উদাহরণসমূহের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন।
৪. ওলামায়ে কেরাম বলেছেন—আল¬াহ তাআলার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের দুটি স্তর রয়েছে।
ক. ওয়াজিব তথা অবশ্য কর্তব্য শুকরিয়া। অর্থাৎ ওয়াজিব আমলগুলো পালন করা, হারাম হতে বিরত থাকা।
খ. মোস্তাহাব তথা ঐচ্ছিক শুকরিয়া। অর্থাৎ ফরজ আদায় করে, হারাম হতে বিরত থাকার পর নফল এবাদত করা।
৫. মানুষের মাঝে মীমাংসা করা, ভালোবাসা, মহব্বত ও সুসম্পর্ক স্থাপন করা, পরস্পর বিরোধিতা, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করা—এর দ্বারা আল¬াহ তাআলার শুকরিয়া আদায় ও অধিক ছাওয়াব অর্জিত হয়।
৬. মানুষের সেবা করা এবং তাদের প্রয়োজন পুর্ণ করা, তাদের অধিকার আদায়ের জন্য চেষ্টা করা, ঋণগ্রস্ত অভাবী ব্যক্তিদের সুযোগ দেয়া। এ ধরনের আরো খেদমত আঞ্জাম দেয়া যার দ্বারা অপর ব্যক্তি উপকৃত হয়—অধিক সওয়াবের এবং উত্তম আমল। আল¬াহ তাআলা বলেন—

لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا. 

‘তাদের অধিকাংশ সলা-পরামর্শ ভাল নয়। কিন্তু যে সলা-পরামর্শ দান খয়রাত করতে কিংবা সৎকাজ করতে, কিংবা দুজনের মাঝে সন্ধি-স্থাপন কল্পে করা হয়, তা স্বতন্ত্র। যে এ কাজ করে আল¬াহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যে, আমি তাকে বিরাট সওয়াব দান করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slieder

Featured Posts
June 2018
M T W T F S S
« May   Jul »
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
সর্বসত্ত্ব সত্বাধীকারী- শায়খ আফতাব উদ্দিন ফারুক Ⓒ