ফযিলতপূর্ণ রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর

ফযিলতপূর্ণ রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর

দেখতে দেখতে মাহে রামাযান আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আমরা এসে পৌঁছেছি শেষ দশকের শেষ প্রান্তে। সৌভাগ্যবান লোকেরা এ মাসে আঁচল ভরে পাথেয় সংগ্রহ করছে আর হতভাগারা এখনো অন্ধকারের অলি-গলিতে উদ্ভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে।কিন্তু কল্যাণের বারি বর্ষণ এখনো শেষ হয়ে যায় নি। বন্ধ হয়ে যায় নি তাওবার দরজা বরং আরও বশি সুযোগ নিয়ে মাহে রামাযানের শেষ দশক আমাদের মাঝে সমাগত।

আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য বিশেষ একটি সুযোগ রেখেছেন তা হলো, লাইলাতুল কদর বা শবে কদর।আরবিতে লাইলাতুন শব্দের অর্থ রাত। কদর শব্দের অর্থ সম্মান, সম্মানী, মহান। এই রাতকে এইজন্যই লাইলাতুল কদর বলা হয় যে ব্যক্তি এই রাতে আল্লাহর ইবাদতে কেটে দিতে পারবে আল্লাহ তায়ালা তার সম্মান দুনিয়া ও আখেরাতে বৃদ্ধি করে দেবেন। আসুন জেনে নিই এই রাত সম্পর্কে আল্লাহ এবং তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন-

১) শবে কদরে কুরআন অবর্তীণ হয়েছে:, আল্লাহ তায়ালা বলেন:

إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
“আমি একে (কুরআন) অবর্তীণ করেছি শবে কদরে।” (সূরা কাদর: ১)
২) শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম: আল্লাহ বলেন:

لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ

“শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সূরা কাদর: ৩)

৩) এই রাতে আসমান থেকে আল্লাহর বিশেষ ফেরেশতা অবতরণ করেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ (4) سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ 5

সে রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা পর্যন্ত। ( সুরা-আল কদর )

৪) শবে কদরে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করলে পূর্বের সকল ছোট গুনাহ মোচন হয়ে যায়:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছাওয়াবের আশায় শবে কদরে রাত জাগরণ করে নফল নামায ও ইবাদত বন্দেগী করবে তার পূর্বের সকল (ছোট) গুনাহ মোচন করে দেয়া হবে।”[3]

লাইলাতুল কদর কোন রাতে

আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ »
“তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান কর।”

আমাদের দেশে সাধারণত: মানুষ শুধু রামাযানের সাতাইশ তারিখে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগীকরে এবং ধারণা করে এ রাতেই শবে কদর অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ ধারণা, সুন্নতের সাথে সঙ্গতীপূর্ণ নয়। কারণ, আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

« تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

“তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান কর।”

লাইলাতুল কদরের বিশেষ আমল

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দুয়াটি পাঠ করব? তিনি বললেন, তুমি বল:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّى

“হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন। অত:এব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।” (তিরমিযী, অনুচ্ছেদ, কোন দুয়াটি শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান, সহীহ)।

এছাড়াও আপনি এই রাতে নফল নামায، কাযা নামায، যিকির-আযকার، তেলাওয়াত، সলাতুত-তাওবা এবং সালাতুল হাজাত পড়তে পারেন।

উপসংহার

পবিত্র লাইলাতুল কদর আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি বিরাট বোনাস স্বরূপ।মাত্র একটি রাত ইবাদাতের কারণে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের মান ইজ্জত، সম্মান অনেক অনেক বৃদ্ধি করে দেন।এক রাতের ইবাদতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের এক হাজার মাস ইবাদতের ছাওয়াব দান করবেন! এক হাজার মাস সমান 83বছর।আল্লাহু আকবার। কেমন দয়ালু তিনি। চিন্তা করেন، দুনিয়ায় যত বড় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হোক، যত বড় দিল দরিয়ার মালিক হোক মাত্র একদিন কাজ করে তাকে এক হাজার মাসের বোনাস দেবে তা কল্পনাও করা যাবে না। কিন্তু মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমার আর আপনার আমলনামায় একহাজা মাসের ছাওয়াব দান করছেন। এটা সাধারণ কোনো কথা নয়। তাই আসুন এই রাতগুলো হেলায় কাটিয়ে না দিয়ে কাজে লাগাই। ইবাদতে মশগুল থাকি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের উভয়জগতে কামিয়াবি অর্জন করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slieder

Featured Posts
June 2018
M T W T F S S
« May   Jul »
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
সর্বসত্ত্ব সত্বাধীকারী- শায়খ আফতাব উদ্দিন ফারুক Ⓒ