ইসলামে হজের বিধান (কিস্তি ১)

হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। দীনের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ। আর্থিক ও শারীরিক সামর্থবানদের ওপর হজ ফরজ।

এই পবিত্র বিধান প্রত্যেক সামর্থবান মুসলমানের উপর জীবনে একবারই ফরয হয়। হজ্জের বিধানকে অবজ্ঞাকারী কিংবা অস্বীকারকারী ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়।

ইবাদত কয়েক পদ্ধতিতে আদায় করতে হয়। এর মধ্যে একটি হলো আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। আর হজ্জ হলো সেই আর্থিক ও শারীরিক ইবাদতের সমন্বয়। শারীরিক ইবাদত তথা সালাত আদায় করতে করতে আর্থিক ইবাদত তথা যাকাত আদায় করে সর্বশেষে শারীরিক ও আর্থিক সমন্বয় ঘটিয়ে প্রিয় মহামহিয়ান রব আল¬াহ তা’আলার নিদর্শন ও তাঁর  স্মৃতিবিজড়িত স্থান সমূহে এসে তাঁরই সমীপে নিজেকে সঁপে দেওয়ার জন্যই হজ্জ আদায় করা হয়।

কুরআন ও হাদীসে হজ্জের বর্ণনা

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ-

অর্থঃ তোমরা আল্লাহ তা’আলার জন্য হজ্জ-উমরা পরিপূর্ণভাবে আদায় করো। হজ্জ করতে গিয়ে তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হলে কুরবানী করার জন্য যা কিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের জন্য ধার্য করা হলো।  কুরবানীর পশু তার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছার আগ পর্যন্ত তোমরা কেউ মাথা মুন্ডন করবে না। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা কারো মাথায় যদি সমস্যা হয়, তা হলে এর পরিবর্তে সিয়াম রাখবে অথবা সদকা করবে অথবা কুরবানী করবে।
পথ নিরাপদ হয়ে যাওয়ার পর তোমাদের যারা হজ্জে তামাত্তু করতে চাও, তারা যা কিছু সহজলভ্য, তাই দিয়েই কুরবানী করো। কুরবানী করা সম্ভব না হলে হজ্জের দিনগুলোতে তিনটি এবং হজ্জ থেকে ফিরে আসার পরে সাতটি তথা সর্বমোট দশটি সিয়াম রাখবে।
এ নির্দেশ তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মসজিদুল হারামের আশেপাশে বসবাস করে না। আর তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাকো। নিশ্চিতরূপে জেনে রাখো, আল্লাহ তা’আলার আযাব বড় কঠিন।

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَىٰ وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ –

অর্থঃ নির্দিষ্ট কয়েকটি মাসকে হজ্জের মাস বলা হয়। যে ব্যক্তি এ মাসগুলোতে হজ্জ আদায় করার নিয়ত করবে, তার জন্য স্ত্রীর সাথে মিলামিশা করা, অশোভনীয় কোনো কাজ-কর্ম করা এবং ঝগড়া-বিবাদ করা জায়েয নয়। আর তোমরা সৎ কর্ম যা কিছুই করো, তা আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই জানেন।
আর হজ্জে গমন করার সময় পাথেয় সাথে করে নিয়ে যাও। নিশ্চয় সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। সর্বোপরি তোমরা আমরা আমাকে ভয় করতে থাকো হে বুদ্ধিমান লোকেরা!

لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ فَإِذَا أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ –

অর্থঃ তোমাদের ওপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অনুসন্ধান করায় কোনো পাপ নেই। আর আরাফাত থেকে তাওয়াফের জন্য ফিরে আসার পরে মাশ’আরে হারামের কাছে তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করো। যেভাবে তোমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবে স্মরণ করো। অবশ্যই এর আগে তোমরা পথভ্রষ্ট ছিলে।

ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ –

অর্থঃ এরপর তোমরা তাওয়াফের জন্য সেখান থেকে দ্রুত গতিতে ফিরে আসো, যেখান থেকে সবাই ফিরে। আর সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলার কাছে মাগফিরাত কামনা করতে থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল করূণাময়।

فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا فَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ –

অর্থঃ অতঃপর যখন তোমরা হজ্জের যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করবে, তখন তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ওইভাবে স্মরণ করো, যেভাবে তোমরা নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে স্মরণ করতে। বরঞ্চ এর চেয়েও বেশি আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করো। এ কথা বলার পর অনেকে বলে- হে পরওয়ারদিগার! াাপনি আমাদেরকে পৃথিবীতে দান করুন; অথচ আখিরাতের জন্য কোনো কিছুই নেই।

وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ –

অর্থঃ তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে- হে পরওয়ারদেগার! আপনি আমাদেরকে পৃথিবীতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ নসীব করুন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে হিফাযত করুন।

أُولَٰئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّمَّا كَسَبُوا وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ – 

অর্থঃ এদের জন্যই রয়েছে নিজেদের উপার্জিত সম্পদের। আর আল্লাহ তা’আলা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ فَمَن تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَىٰ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ-

অর্থঃ আর তোমরা স্মরণ করো আল্লাহ তা’আলাকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কয়েকটি দিনে। অতঃপর যে লোক তাড়াহুড়া করেদুই দিনের মধ্যে চলে যাবে, তার কোনো পাপ হবে না। আর যারা থেকে যাবে, তাদের ক্ষেরত্রও কোনো সমস্যা নেই; অবশ্য যারা ভয় করে। তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাকো এবং নিশ্চিত জেনে রাখো, একদিন তোমরা সবাই তাঁর সামনে সমবেত হবে।
(সূরা বাকারাহ-১৯৬-২০৩)

চলবে-

আগামী সংখ্যায় থাকছে ‘হাদিসে নববীতে হজের বর্ণনা’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slieder

Featured Posts
July 2018
M T W T F S S
« Jun   Aug »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
সর্বসত্ত্ব সত্বাধীকারী- শায়খ আফতাব উদ্দিন ফারুক Ⓒ