আসুন জেনে নিই হজ্জের নিয়ম-কানুন (৩)

কা’বা গৃহ দৃষ্টোচর হওয়া মাত্র দু’হাত উঁচু করে আল্লাহু আকবার বলে নিজ ইচ্ছানুযায়ী যেকোন দো’আ করুন অথবা

ওমর (রাঃ) পড়েছিলেনঃ

الھم انت السلام ومنک السلام فحینا ربنا بالسلام

আল্লা-হুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, ফাহাইয়েনা রব্বানা বিস সালাম (হে আল্লাহ! তুমি শান্তি । তোমার থেকেই আসে শান্তি । অতএব হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের শান্তির সাথে বাঁচিয়ে রাখো!)-বায়হাক্বী ৫/৭৩

হারামে ডান পা রেখে দো’আঃ পড়া:
اللّهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ،
আল্লা-হুম্মা ছাল্লিআলা মুহাম্মাদ ওয়া সাল্লিম; আল্লা-হুম্মাফতাহলী আবওয়াবা রহমাতিকা (হে আল্লাহ! তুমি মোহাম্মাদ সা.-এর উপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ কর । হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার অনুগ্রহের দরজা সমূহ খুলে দাও (হাকেম ১/২১৮; আবুদাউদ হা/৪৬৫; ইবনু মাজাহ হা/৭৭২-৭৩; ছহীহাহ হা/ ২৪৭৮)অথবা
، أَعُوْذُ باِللهِ الْعَظِيمِ وَ وَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ»
আ‘ঊযু বিল্লা-হিল আযীম, ওয়া বিওয়াজহিহিল কারীম, ওয়া বিসুলত্বা-নিহিল ক্বাদীমি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম (আমি মহীয়ান ও গরীয়ান আল্লাহ এবং তাঁর মহান চেহারা ও চিরন্তন কর্তৃত্বের আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিতারিত শয়তান হ’তে)

তাওয়াফ ও সায়ীর বিবরণ

হাজীদের সর্বপ্রথম কাজই হলো (তামাত্তু ও ক্বেরান কারীগণ) নিজের মালছামানা গুছিয়ে রেখে পাকপবিত্র হয়ে মোটেই দেরী না করে তালবিয়া পড়তে পড়তে ‘হারাম শরীফে’হাজিরা দেওয়া এবং ‘তাওয়াফ’করা।

তালবিয়া:

«لَبَّيْكَ أللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيْكَ لَكَ.»

 

”লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাঈক, লাব্বাঈক, লা-শারীকা-লাকা লাব্বাঈক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুল্ক, লা শারীকালাক।”

অর্থ: আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোন অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার।আপনার কোন অংশীদার নেই।

তাওয়াফের নিয়্যাতঃ

الھم انی ارید طواف بیتک الحرام فیسرہ لی وتقبلہ منی سبعۃ الشواطبن للہ تعالی

আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারাম ফায়াচ্ছিরহু-লী, ওয়া তাক্বাব্বাল-হু-মিন্নী, সাবাআ’তা আশ্ওয়াতি্বন লিল্লাহি তায়া’লা।

বাংলায় নিয়ত- হে আল্লাহ আমি তাওয়াফ পালনের জন্য নিয়ত করলাম।

কাবা ঘরের চারটি কোণের আলাদা নাম আছে। যেমন: হাজরে আসওয়াদ, রুকনে ইরাকি, রুকনে শামি ও রুকনে ইয়ামেনি। হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোণ থেকে শুরু হয়ে কাবা ঘরের পরবর্তী কোণ রুকনে ইরাকি, (দুই কোণের মাঝামাঝি স্থান মিজাবে রহমত ও হাতিম)। তারপর যথাক্রমে রুকনে শামি ও রকনে ইয়ামেনি। এটা ঘুরে আবার হাজরে আসওয়াদ বরাবর এলে তাওয়াফের এক চক্কর পূর্ণ হয়। এভাবে একে একে সাত চক্কর দিতে হয়।

তাওয়াফকালীন কিছু আমল ও দোয়া

ত্বাওয়াফঃ

আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ প্রদক্ষিণ করাকে ত্বাওয়াফ বলে ।

وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ

এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাইল (আঃ) কে দায়িত্ব দিলাম যে তোমরা আমার ঘর পবিত্র করো তাওয়াফকারী ও ইতিকাফকারীদের জন্য (বাক্বারাহ ২/১২৫)

ত্বাওয়াফে কুদূমঃ

(আগমনী ত্বাওয়াফ) ওযু অবস্থায় হারামের যেকোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করে সোজা মাত্বাফে গিয়ে কা’বার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত হাজারে আসওয়াত (কালো পাথর) বরাবর সবুজ বাতির নীচ থেকে কাবা গৃহকে বামে রেখে ত্বাওয়াফ শুরু করবেন ।

ত্বাওয়াফ কেনঃ

আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের তাওয়াফ করার নির্দেশ দিয়েছেন (দেখুন সুরা হজ্জ ২২/২৯) এছাড়াও হ’তে পারে-

১) এটাই পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র ইবাদতের জন্য নির্মিত প্রথম গৃহ (আলে ইমরান ৩/৯৬)

২) এটি পৃথিবীর নাভিস্থল এবং ঘুর্ণায়মান লাটিমের কেন্দ্রের মত ।

৩) প্রকৃতির প্রত্যেক ছোট বস্তু বড় বস্তুকে কেন্দ্র করে ঘোরে ।

ত্বাওয়াফ কত বারঃ

৭ বার । হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে এখানে আসলেই ১ ত্বাওয়াফ ।

শুরুতে হাজারে আসওয়াদ-এর দিকে হাত ইশারা করে বলবেনঃ বিসমিল্লাহি আল্লা-হু আকবার (আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি এবং আল্লাহ সবার বড়) শুধু আল্লাহু আকবার বলা যায় ।

তাওয়াফের শুরুতে আপনার জন্য নিম্নের দো‘আটি পড়া সুন্নাত :
اللّهُمَّ إِيْمَاناً بِكَ وَتَصْدِيْقاً بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَاتِّبَاعاً لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ
অর্থ : “হে আল্লাহ্! আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য প্রতিপন্ন করে, আপনার প্রতিশ্রুতিকে পূর্ণ করে এবং আপনার রাসূলের সুন্নাতকে অনুসরণ করে (আমি তাওয়াফ শুরু করছি)”
সুযোগ পেলে শুরু ও শেষে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করবেন । ভিরের কারনে সু্যোগ না পেলে করবেন না ।

রাসুল (সাঃ) হযরত ওমর (রাঃ) কে বলেছেন হে ওমর! তুমি শক্তিমান মানুষ । হাজরে আসওয়াদ স্পর্শের জন্য ভির ঠেলে যেতে যেও না যা দুর্বলকে কষ্ট দিবে । যদি খালি পাও তবে স্পর্শ করো । অন্যথায় এর দিকে মুখ করো, তাকবির দাও ও তাহলিল পড়ো (মুসনাদে আহমদ; ১৯০) হাজারে আসওয়াদ জান্নাত থেকে নেমে আসা একটি পাথর (নাসাঈ ৫/২২৬) রুকনে ইয়ামেনী থেকে দক্ষিণ দেওয়াল এলাকায় পৌঁছে প্রতি ত্বাওয়াফে দো’আঃ
﴿رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ٢٠١ ﴾ [البقرة: ٢٠١]
রব্বা-না আ-তিনা ফিদ্দুন্‌ইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আযা-বান্না-র (হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দাও ও আখিরাতে মঙ্গল দাও এবং আমাদেরলে জাহান্নামের আযাব হ’তে রক্ষা কর (বাক্বারা ২/২০১; ছহীহ আবুদাউদ হা/১৬৬৬; মিশকাত হা/২৪৮৭, ২৫৮১; বুখারী হা/৪৫২২,৬৩৮৯) হাজারে আসওয়াদ ১ম কোণ এবং রুকনে ইয়ামানী হবে চতুর্থ কোণ । সম্ভব হলে রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করে বলবেনঃ বিসমিল্লা-হি, ওয়াল্লা-হু আকবার । না হলে দো’আটি পড়তে পড়তে চলে যাবেন ।

হাদিসে এসেছে, ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসুল (সাঃ) কে দুই রুকনে ইয়ামেনি ব্যতীত অন্য জায়গায় স্পর্ষ করতে দেখিনি (মুসলিম ২/৯২৪)

রমল শুধু ত্বাওয়াফে কুদুমেঃ মানে প্রথম ৩টি ত্বাওয়াফে একটু জোরে চলতে হবে বাকি ৪টি স্বাভাবিক গতিতে চলবেন । এভাবেই ৭ বার ত্বাওয়াফ ।

বিঃদ্রঃ তাওয়াফের সময় জামা’আতের ইকামত দিলে জামা’আতে শরীক হবেন । ছালাত শেষে তাওয়াফের বাকি অংশ পূর্ণ করবেন ।

ত্বাওয়াফ শেষের নামায

وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى

তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থানকে নামাযের স্থান বানাও (বাক্বারাহ ২/১২৫)
ত্বাওয়াফ শেষ করে মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে বা ভিড়ের কারনে অস্বম্ভব হ’লে হারাম শরীফের যেকোন স্থানে দু’রাক’আত নফল নামায আদায় করবেন।

প্রথম রাকা’আতে ফাতিহার পর সূরা কাফেরূন দ্বিতীয় রাক’আতে ইখলাছ বা অন্য সুরাও পাঠ করা যাবে।

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ্‌র ৭টি ত্বাওয়াফ করবে ও শেষে দু’রাক’আত নামায আদায় করবে, সে যেন ১টি গোলাম আযাদ করল । এই সময় প্রতি পদক্ষেপে ১টি করে গোনাহ ঝরে পড়ে ও ১টি করে নেকী লেখা হয় (মিশকাত হা/২৫৮০)

নামায শেষে সম্ভব হলে হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করবেন ।

রাসুল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি রুক্‌নে ইয়ামেনী ও হাজারে আসওয়াত স্পর্শ করবে, তার সমস্ত গোনাহ ঝরে পড়বে (ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/২৭২৯; ছহীহ নাসাঈ হা/২৭৩২)

ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদ প্রতি তাওয়াফেই স্পর্শ করতেন (আবু দাউদ হা/১৮৭৬)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slieder

Featured Posts
July 2018
M T W T F S S
« Jun   Aug »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
সর্বসত্ত্ব সত্বাধীকারী- শায়খ আফতাব উদ্দিন ফারুক Ⓒ