উকূফে আরাফার সর্বোত্তম দু’আসমূহ (১)

উকূফে আরাফার সর্বোত্তম দু’আসমূহ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সবচেয়ে উত্তম দু’আ আরাফার দিনের দু’আ। আর সর্বোত্তম দু’আ হলো এই দু’আ যা আমি ও আমার পূর্বেকার নবীগণ আ. করেছেন। তা হলো-
لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لا شَرِيْكَ لَهٗ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِىْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণ ঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহয়ি ওয়ায়ুমিতু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
জীবনে যে সমস্থ গোনাহ্ হয়ে গেছে এবং এখনও হচ্ছে তা কল্পনায় চোখের সামনে নিয়ে আসুন। ঐ সমস্ত গোনাহের জন্য লজ্জিত হোন এবং অনুশোচনা করুন। তাওবা করুন। আজকে এ আরাফার ময়দানেও যদি গোনাহ্ মাফ না হয় তবে আর কবে হবে? আপনি যে তাঁবুতে অবস্থান করছেন, যদি কোন কারণে ঐ তাঁবুর পরিবেশ ভাল না হয়, তাহলে পার্শ্ববর্তী অন্য তাঁবুতে অথবা কোন গাছের ছায়ায় বা খোলা আকাশের নিচে (সম্ভব হলে দাঁড়িয়ে) অত্যন্ত একাগ্রচিত্তে ভয় ও ভক্তির সাথে ইবাদতে মশগুল থাকুন। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যাপার। আত্মীয়-স্বজন বা কোন বন্ধু সাথে থাকলে কান্নাকাটি করতে অনেক সময় অসুবিধা হয়। আরাফাতের প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত মূল্যবান। এই বিশ্বাস রাখুন যে, লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে আপনার দু’আও কবুল হবে ইনশাআল্লাহ। এটা দু’আ কবুলের স্থান ও সময়।
দু’আ করার সময় উভয় হাত উঠিয়ে কিবলামুখী হয়ে দু’আ করবেন। দু’আর আগে হামদ-ছানা, তাকবীর, তাহলীল, ইত্যাদি পাঠ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পড়ে দু’আ করবেন। কিছুক্ষণ পর পরই তালবিয়া পাঠ করবেন। খুব বিনয় এবং খুশু’ ও খুযুর সাথে দু’আ করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এভাবে দু’আর মধ্যে মশগুল থাকবেন। যে কোন ভাষায় দু’আ করা জায়েয আছে।
আল্লাহ্ তা’আলার নিকট যখনই দু’আ চাইবেন তখনই দৃঢ়ভাবে আশা পোষণ করুন যে, আল্লাহ তা’আলা আপনার দু’আ কবুল করবেন।
আরাফাহ্ ময়দানে নিচের গুরুত্বপূর্ণ দু’আগুলো বার বার পড়ুন। যদি সম্ভব হয় প্রত্যেকটি ১০০বার পড়–ন। এ জন্য ১০০ দানাওয়ালা তাসবীহ হাতে রাখতে পারেন। এটা বেশ সুবিধাজনক। হজ্জ সফরের পূর্বেই এই দু’আগুলো মুখস্ত করা ভাল।

لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لا شَرِيْكَ لَهٗ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِىْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণ ঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইয়ুহয়ি ওয়ায়ুমিতু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
অর্থ ঃ আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সমস্ত জগতের মালিক তিনি। সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনি জীবন এবং মৃত্যু দান করেন। তিনি সকল বস্তুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّىْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ
উচ্চারণ ঃ লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।
“তুমি ছাড়া কোন মা’বুদ নেই। তুমি পাক-পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি অত্যাচারীদের অন্তর্ভূক্ত।”
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَآ اِلٰهَ اِلّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ وَلَاحَوْلَ وَلَاقُوَّةَ اِلّا بِاللّٰهِ العَلِىّ الْعَظِيْمِ
উচ্চারণ ঃ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যুল আজিম।
“পাব পবিত্র আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য। আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান ও মহীয়ান। আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া ভাল কাজ করারও কোন ক্ষমতা নাই এবং মন্দ হতে বেঁচে থাকারও কোন উপায় নাই।

আয়াতুল কুরসী
اَللهُ لَآ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِى السَّمٰوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهٗ إِلَّا بِإِذْنِهٖ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖ إِلَّا بِمَا شَآءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

বাংলা উচ্চারণ ঃ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইউল কাইউম, লা- তা’খজুহু ছিনাতাওঁ ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিচ্ছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লাবিইযনিহী, ইয়া’লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াছিয়া কুরছিইয়্যুহুচ্ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়ালা ইয়ায়ুদুহু হিফযুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যুল আজীম।
অর্থ ঃ আল্লাহ ব্যতিত কোন উপাস্য নেই। তিনি চির জীবন্ত ও চিরস্থায়ী। তাঁর নিদ্রা বা তন্দ্রা নেই। আসমাযে ও যমীনে যা কিছু আছে, সবই তাঁর। তাঁর হুকুম ব্যতিত তাঁর নিকট সুপারিশ করার কারো সাধ্য থাকবে না। তিনি সম্মুখের ও পিছনের সব অবস্থাই সাম্যক অবগত। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিত কারও জ্ঞান অর্জন করার সাধ্য নেই। আল্লাহর আসন সমস্ত আকাশ পাতাল জুড়ে এবং আসমান ও যমীনকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে তাঁর কোন অসুবিধা হয় না। এবং তিনি মর্যাদাশীল ও মহান।

সূরা আল ইমরান, আয়াত- ১৮

شَهِدَ اللَّهُ اَنَّهُ لَآ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَاُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَآ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
উচ্চারণ ঃ শাহিদাল্লাহু আন্নাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুয়া ওয়াল মালায়িকাতু ওয়া উলুল ইলমি ক্বা-য়িমাম বিলক্বিসতি, লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল আযীযুল হাকীম।
অর্থ ঃ আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ব্যতিত অন্য কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণ অর্থাৎ নবী, রাসূলগণ ও এ মর্মে সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠাকারী। তিনি ব্যতিত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
মুসনাদে ইমাম আহ্মদে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের ময়দানে এ আয়াত পাঠ করার পর ইরশাদ করেন, পরওয়াদিগার, আমিও এর সাক্ষ্যদাতা (ইবনে কাছীর)। ইমাম আ’মাশের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, এ আয়াত পাঠ করার পর যে ব্যক্তি ‘পরওয়ারদিগার, আমিও এর সাক্ষ্যদাতা’ বলবে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের ময়দানে ফেরেশতাদের বলবেন যে, আমার এ বান্দা একটা অঙ্গীকার করেছে। আমি সবচাইতে বেশি অঙ্গীকার পূর্ণ করি। তাই আমার বান্দাকে জান্নাতে স্থান দাও।
সূরা আল ইমরান, আয়াত : ২৬-২৭

قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِى الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ اِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

تُولِجُ اللَّيْلَ فِى النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِى اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَىَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَىِّ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ

উচ্চারণ ঃ কুলিল লা হুম্মা মা-লিকাল মুলকি তু’তিল মুলকা মান তাশা-উ ওয়া তানয্’িউল মুলকা মিম্মান তাশা-উ ওয়াতুইযযু মান তাশা-উ ওয়া তুযিল্লু মান তাশা-উ বিইয়াদিকাল খাইর। ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। তু-লিজুল লাইলা ফিন্নাহারি ওয়াতুলিজুন নাহারা ফিল্লাইলি, ওয়াতুখরিজুল হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যিতি ওয়াতুখরিজুল মাইয়্যিতা মিনাল হাইয়্যি। ওয়া তারযুকু মান তাশা-উ বি গাইরি হিছাব।
অর্থ ঃ বল, হে সারা জাহানের বাদশাহ্, তুমি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান কর। যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা প্রাধান্য দাও আর যাকে ইচ্ছা হীন কর। সবই তব সদিচ্ছা নির্ভর। তুমি সকল ক্ষমতার আধার।
তুমিই রাতকে দিনে পরিণত এবং দিনকে রাতে পরিণত কর। তুমিই মৃত হতে জীবন্তের আবির্ভাব কর আবার তুমিই আবির্ভাব কর জীবন্ত হতে মৃতের। তুমি যাকে ইচ্ছা বিনা হিসাবে রিযিক দান কর।

হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর ‘আয়াতুল কুরসী’ শাহিদাল্লাহু আয়াত এবং কুলিল লা হুম্মা মা-লিকাল মুলকি থেকে বি গাইরি হিছাব পর্যন্ত আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার সব গোনাহ ক্ষমা করে তাকে জান্নাতে স্থান দিবেন। এছাড়া তার সত্তরটি প্রয়োজন মিটাবেন। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন প্রয়োজন হবে মাগফিরাত দান।

সূরা ইখলাস
قُلْ هُوَ اللَّهُ اَحَدٌ ; اللَّهُ الصَّمَدُ ; لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ; وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا اَحَدٌ

বাংলা উচ্চারণ ঃ কুল হুয়াল লা-হু আদাহ। আল্লাহুছ ছামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ ঃ আপনি (তাদেরকে) বলে দিন যে, তিনি আর্থাৎ আল্লাহ্ এক। আল্লাহ্ অমুক্ষাপেক্ষী। তাঁর কোন সন্তান-সন্ততি নেই। আর তিনি কারো সন্তান নন। তাঁর সমতুল্য কেউই নাই।

দরূদ শরীফ
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلىٰ مُحَمَّدٍ وَّعَلىٰ اٰلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلىٰ اِبْرٰهِيْمَ وَعَلىٰ اٰلِ اِبْرٰهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ ; اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلىٰ مُحَمَّدٍ وَّعَلىٰ اٰلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلىٰ اِبْرٰهِيْمَ وَعَلىٰ اٰلِ اِبْرٰهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ ;

বাংলা উচ্চারণ ঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলে মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়ালা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক্ আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলে মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়ালা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
অর্থ ঃ ইয়া আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এবং তাঁর বংশধরদের উপর তোমার খাছ রহমত দান কর, যেমন ইবরাহিম আ. এবং তাঁর বংশধরের প্রতি রহমত পাঠিয়েছ। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর এবং তাঁর বংশধরদের উপর তোমার বরকত প্রদান কর, যেরূপ তুমি ইবরাহিম আ. এবং তাঁর বংশধরের প্রতি বরকত পাঠিয়েছ। তুমিই বুযুর্গী ও প্রশংসার মালিক।
এছাড়াও যত দু’আ আপনার মুখস্ত আছে সব পড়–ন। যদি সাথে আপনার অযীফার কিতাব থাকে তাহলে প্রাণভরে পড়–ন। মনে করুন, আল্লাহ তা’আলা আপনার সমস্ত কথা শুনছেন, আপনাকে দেখছেন।
আজ আল্লাহর নিকট অনেক কিছু চাওয়ার, পাওয়ার এবং তাঁর ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করার সেই দিন, যা আপনি সৌভাগ্যক্রমে পেয়েছেন। যতদূর সম্ভব দু’আ-দরূদ ও তালবিয়া পাঠে মশগুল থাকুন। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যাপার। প্রতি মুহূর্তের সদ্ব্যবহার করুন। দু’আ করার সময় দৃঢ় আশা রাখুন যে, আল্লাহ তা’আলা এই আরাফার ময়দানে লক্ষ লক্ষ হাজি সাহেবদের সাথে আপনার দু’আও কবুল করবেন।
এভাবে দু’আ করতে পারেন-
হে আল্লাহ! আমি এই আরাফার ময়দানে সর্বান্তকরণে স্বীকার করছি যে, তুমি ব্যতিত আমার আর কোন মা’বুদ এবং মালিক নেই। আর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার খাস বান্দা এবং সত্য রাসূল।
হে আল্লাহ! আমি এ সময় তোমার পবিত্র যমীনের উপর এবং তোমার রহমতের ছায়ায় আছি। এখানে সকলেই এখন তোমার দরবারে নিজ নিজ দু’আ করছেন। আর তুমি নিজ রহমতে সেগুলো কবুল করছ। সকলের সাথে আমারও গোনাহসমূহ মাফ করে দাও। আমার হজ্জ কবুল কর এবং আমার প্রতি রহমত কর, আমাকে নিরাশ করোনা। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাতে কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর। নিশ্চয়ই তুমি সব বিষয়ের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। এটা যেন আমাদের জীবনের শেষ হাজিরা না হয়। হে আল্লাহ! তুমি দয়া করে আমাকে এখানে বার বার নিয়ে এসো।

হে আল্লাহ! তোমার দেওয়া রুজিতেই যে আমি খুশি থাকি। দুনিয়া এবং আখিরাতে লজ্জিত হতে হয় এমন কাজ থেকে আমাকে বিরত রাখ। আমাকে ইহকালে এবং পরকালে মঙ্গল দান কর। কুরআন শরীফের তিলাওয়াতকে আমার অন্তরের আলো এবং আমার সকল পেরেশানী ও চিন্তা দূর করার উপায় করে দাও।

ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। তারপর তুমিই আমাকে পথ দেখিয়েছ। তুমিই আমাকে আহার করাও এবং পান করাও। যখন আমি পীড়িত হই তখন তুমিই আমাকে আরোগ্য দান কর। এবং তুমি আমাকে (নির্দিষ্ট সময়ে) মৃত্যু দান করবে, তারপর আমাকে জীবিত করবে। তোমার কাছে এই আশাও আছে যে, তুমি কিয়ামত দিবসে আমার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিবে।

ইয়া আল্লাহ! আমার নামায, আমার রোজা, আমার হজ্জ, আমার যাকাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ কেবলমাত্র তোমারই জন্য। তোমার কাছে আমি তোমার সন্তুষ্টি ও তোমার রহমত একান্তভাবে কামনা করছি।
এ সমস্ত কিছু আমার বিনীত প্রচেষ্টা মাত্র। আর তোমার উপরই আমার একমাত্র ভরসা।
আরাফার ময়দানের দু’আ বিভিন্ন কিতাবে বিভিন্নভাবে দেওয়া আছে। কুরআনুল কারীম এবং হাদীস শরীফ থেকে কিছু দু’আ বা মুনাজাত এখানে উল্লেখ করা হলো। অর্থের দিকে খেয়াল করে খুব আন্তরিকতার সাথে বার বার পড়–ন।
رَبَّنَا اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰ خِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النّارِ
উচ্চারণ ঃ রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাতাওঁ ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা আযাবান নার।
অর্থ ঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান কর। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর। (সূরা বাকারা- ২০১)

رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِى صَغِيرًا
উচ্চারণ ঃ রাব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি ছাগিরা।
অর্থ ঃ হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের (মাতা-পিতা) প্রতি রহম কর, যেমন করে তাঁরা শৈশবকালে আমাকে লালন-পালন করেছেন। (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত : ২৪)

رَبِّ اَوْزِعْنِى اَنْ اَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِى اَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وَالِدَىَّ وَاَنْ اَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَاَصْلِحْ لِى فِى ذُرِّيَّتِى اِنِّىْ تُبْتُ اِلَيْكَ وَاِنِّىْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ
উচ্চারণ ঃ রব্বি আওযিনি আন আশকুরা নি’মাতাকাল লাতি আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালি দাইয়্যা ওয়া আন আ’মালা ছালিহান তারদ্বাহু ওয়া আছলিহলি ফি জুররিইয়াতি ইন্নি তুবতু ইলাইকা ওয়া ইন্নি মিনাল মুসলিমীন।
অর্থ ঃ হে আমার প্রতিপাকল! তুমি আমাকে তাওফীক দাও। আমি যেন তোমার সেসব নিয়ামতের শোকর আদায় করি যা তুমি আমাকে এবং আমার পিতা মাতাকে দান করেছ। আমরা যেন এমন নেক আমল করি যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও এবং আমার সন্তানদেরকেও সৎকর্মপরায়ন কর। আমি তোমার সমীপে তাওবা করছি এবং আমি অবশ্যই আত্মসমর্পনকারীদের অন্তর্ভূক্ত। (সূরা আহকাফ-১৫)

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا اِنْ نَسِينَا اَوْ اَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا اَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

উচ্চারণ ঃ রাব্বানা লা তুয়াখিযনা ইন নাছিনা আও আখত্ব’না। রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইছরান কামা হামালতাহু আলাল লাজিনা মিন ক্ববলিনা। রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মালাতাক্বাতা লানা বিহি ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলানা ফান্ছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন।
অর্থ ঃ হে আমার প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করোনা। হে আমার প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেমন গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করোনা। হে আমার প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করোনা যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর। আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর। (সূরা বাকারা- ২৮৬)
رَبَّنَا اَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ اَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ ঃ রাব্বান আফরিগ আলাইনা সাবরাওঁ ওয়া ছাব্বিত আকদামানা ওয়ানছুরনা আলাল ক্বওমিল কাফিরীন।
অর্থ ঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান কর। আমাদের পা বিচলিত রাখ এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য দান কর। (সূরা বাকারা-২৫০)

رَبَّنَا ظَلَمْنَا اَنْفُسَنَا وَاِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
উচ্চারণ ঃ রাব্বানা জ্বলামনা আনফুছানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়াতারহামনা লানাকূনান্না মিনাল খ-ছিরীন।
অর্থ ঃ হে আমার প্রতিপালক! আমরা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করেছি। এখন তুমি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না কর এবং আমাদের প্রতি রহম না কর, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব। (সূরা আ’রাফ-২৩)

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً اِنَّكَ اَنْتَ الْوَهَّابُ
উচ্চারণঃ রাব্বানা লাতুযিগ কুলুবানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।
অর্থ ঃ হে আমার প্রতিপালক! যখন আমাদেরকে হিদায়াত দান করেছ তখন আমাদের মনে কোন প্রকার বক্রতা সৃষ্টি করো না। আমাদেরকে তোমার তরফ থেকে অনুগ্রহ দান কর। কেননা প্রকৃত দাতা তো তুমিই। (সূরা আল ইমরান-৮)
رَبَّنَا اغْفِرْ لِىْ وَلِوَالِدَىَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ ঃ রাব্বানাগফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল মু’মিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।
অর্থ ঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ও আমার পিতা মাতাকে এবং সমস্ত মুমিন লোকদের সেদিন ক্ষমা করে দিও যেদিন হিসাব কায়েম হবে। (সূরা ইবরাহিম-৪১)

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ اِمَامًا

উচ্চারণ ঃ রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াযিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনিওঁ ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ ঃ হে আমার প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রীদের ও আমাদের সন্তানদের দ্বারা আমাদের চক্ষুসমূহের শীতলতা দাও এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের অনুসরণযোগ্য বানাও। (সূরা ফুরকান-৭৪)

رَبِّ اشْرَحْ لِىْ صَدْرِىْ ; وَيَسِّرْ لِىْ أَمْرِىْ ; وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِىْ ; يَفْقَهُوا قَوْلِىْ

উচ্চারণ ঃ রাব্বিশ রাহলি ছাদরি ওয়া ইয়াসরলি আমরি। ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানি। ইয়াফকাহু ক্বওলী।
অর্থঃ হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও। আমার কাজ সহজ করে দাও এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও, যেন লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে। (সূরা ত্বহা : ২৫-২৮)

اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَسْئَلُكَ الهُدى والتُّقى وَالْعَفَافَ وَالْغِنىٰ (رواه مسلم)
উচ্চারণ ঃ আল্লাহুমা ইন্নি আছআলুকাল হুদা ওয়াত্তুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা। (মুসলিম)
অর্থ ঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হেদায়াত ও তাক্ওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা ও দুনিয়ার প্রতি অমুখাপেক্ষীতা প্রার্থনা করছি। (মুসলিম)

اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِوَالْكَسْلِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَ عَذَابِ الْقَبْرِ; اَللّٰهُمَّ اتِ نَفْسِىْ تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا اَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا وَاَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا -; اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَايَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا ;(رواه مسلم)

উচ্চারণ ঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল আযযি ওয়াল কাসলি ওয়াল বুখলি ওয়াল হারামি ওয়া আযাবিল কবরী। আল্লাহুম্মা আতি নাফছি তাকওয়াহা ওয়া যাক্কিহা আনতা খইরু মান যাক্কাহা ওয়া আনতা ওয়ালিয়্যুহা ওয়া মাওলাহা। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন ইলমিন লা ইয়ানফায়ু ওয়ামিন কলবিন লা ইয়াখশায়ু ওয়ামিন নাফছীন লা তাশবায়ু ওয়ামিন দাওয়াতিন লা ইউসতাজাবু লাহা।

অর্থ ঃ হে আল্লাহ আমি আশ্রয় চাচ্ছি তোমার কাছে অক্ষমতা ও অলস্য থেকে, কার্পন্য ও বার্ধক্য থেকে এবং কবরের আযাব থেকে। হে আল্লাহ! আমার নফসকে তাকওয়া দান কর এবং তাকে পাক করে দাও। তুমি সবচাইতে ভাল, পাক-পবিত্রকারী। তুমিই কার্য সম্পাদনকারী ও মালিক। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এমন ইলম থেকে যা উপকারে আসে না। এমন হৃদয় থেকে যা আল্লাহর ভয়ে ভীত হয় না। এমন নফস থেকে যা পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন দু’আ থেকে যা কবুল হয় না। (মুসলিম)
اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِوَالْكَسْلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَصَلْحِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ

উচ্চারণ ঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আযযি ওয়াল কাছলি ওয়াল যুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া সালাহিদদাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।
অর্থ ঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পাহান চাই দূর্ভাবনা, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও লোকদের আধিপত্য বিস্তার থেকে। (বুখারী)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slieder

Featured Posts
August 2018
M T W T F S S
« Jul    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
সর্বসত্ত্ব সত্বাধীকারী- শায়খ আফতাব উদ্দিন ফারুক Ⓒ