মক্কা শরীফে অবস্থানকালে কিছু করণীয়

মক্কা শরীফে অবস্থানকালে কিছু করণনীয়
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক দিনে ও রাতে মসজিদে হারামের প্রতি ১২০টি রহমত বর্ষণ করে থাকেন।
তন্মধ্যে এই ঘরের তাওয়াফকারীগণ ৬০টি, এতে নামায আদায়কারী মুসল্লী ৪০টি এবং এই ঘরের দিকে দৃষ্টি প্রদানকারী ব্যক্তিগণ ২০টি রহমত লাভ করেন।
সুতরাং অধিক পরিমানে তাওয়াফ করতে থাকুন। এ ছাড়া অন্যান্য ইবাদতে মশগুল থাকুন। মসজিদুল হারামে জামায়াতে নামায আদায়, নফল নামায, তিলাওয়াত, যিকির ইত্যাদিতে সময় কাটান।
মক্কা মুকাররমা ও মদীনা মুনাওয়ারায় সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া কেবল নামাযের মধ্যেই সীমিত নয়; বরং রোজা, সদকা, ই’তেকাফ, যিকির, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি যাবতীয় সৎকর্মেও অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এর বিপরীতে এ দু’টি শহরে গোনাহ্ করার শাস্তিও অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক গুণ বেশি হয়ে থাকে। (হায়াত)
কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করুন। ইশরাক, চাশ্ত, আওয়াবীন, তাহাজ্জুদ, তাহিয়্যাতুল অযু, সালাতুত্তাসবীহ্ ইত্যাদি নামায পড়ার ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান হোন।

এখানে কয়েক প্রকার নামাযের নিয়ম সংক্ষিপ্ত আকারে দেয়া হলো :
ইশরাকের নামায
ইশরাকের নামাযের ফযীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, এই নামায আদায়কারীকে আল্লাহ তা’আলা একটি হজ্জ ও একটি ওমরার সওয়াব দান করবেন। এই নামাযের ওয়াক্ত সূর্য উদয়ের পর হতে এক দেড় ঘন্টা পর্যন্ত থাকে। সূরা ফাতিহার পরে যে কোন সূরা মিলিয়ে পড়া যায়। এই নামায চার রাকআত, তবে দুই রাকআতও পড়া যায়।

আউয়াবীন নামায
মাগরিবের নামাযের পর দুই রাকআতের নিয়্যতে কমপক্ষে ছয় রাকআত উর্ধ্বে বিশ রাকআত নামায পড়তে হয়। একে ‘আউয়াবীন নামায’ বলা হয়। এই নামাযের অনেক সওয়াব লেখা হয়।

তাহাজ্জুদ নামায
হাদীসে আছে, অর্ধরাতের দুই রাকআত নামায যমীন ও যমীনে যত সম্পদ আছে তা থেকে অধিক মূল্যবান।
এশার নামাযের পর নিদ্রা গিয়ে গভীর রাতে জেগে নামায পড়াকে ‘তাহাজ্জুদ নামায’ বলা হয়। আল্লাহর নিকট সকল নফল নামাযের মধ্যে এই নামাযই বেশি পছন্দনীয়। এই নামায কমপক্ষে চার রাকআত এবং উর্ধ্বপক্ষে বার রাকআত আদায় করার নিয়ম। তবে দুই রাকআত আদায় করলেও তাহাজ্জুদের মধ্যে গণ্য হবে।

সালাতুত্তাসবীহ্
এ নামায আদায়ে অশেষ সওয়াব হয়। হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা হযরত আব্বাস রা. কে এ নামায শিখিয়ে ছিলেন এবং ইরশাদ করেছেন যে, এ নামায আদায়ে আপনার পূর্বাপর নতুন-পুরাতন, ছোট-বড় সব গোনাহ্ মাফ হয়ে যাবে। যদি সম্ভব হয় তাহলে এই নামায দৈনিক পড়–ন। নতুবা সপ্তাহে একবার। নতুবা প্রত্যেক মাসে একবার। নতুবা বছরে একবার। যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে সারা জীবনে একবার হলেও পড়ে নিবেন।
নামায পড়ার নিয়ম :
এ নামাযে নিম্নলিখিত তাসবীহ্ ৩০০ বার পড়তে হয়।
سُبْحَانَ اللهِ وَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ ولَآ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণ ঃ সুবহানাল্লিহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।
পড়ার নিয়ম হলো :
চার রাকআত সালাতুত্তাসবীর নিয়্যত করবেন এবং উক্ত তাসবীহ্ সানা পড়ার পর সূরা ফাতিহা পড়ার আগে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ে ১০ বার, রুকুর তাসবীর পর ১০ বার, রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ১০ বার, প্রথম সিজদার তাসবীর পর ১০ বার, দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকে ১০ বার, দ্বিতীয় সিজদার তাসবীর পর ১০ বার, (১৫+১০+১০+১০+ ১০+ ১০+১০=৭৫)। দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ফাতিহা পড়ার আগে ১৫ বার, সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ে রুকুতে যাওয়ার আগে ১০ বার, রুকুর তাসবীর পর ১০ বার, রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ১০ বার, প্রথম সিজদার তাসবীর পর ১০ বার, দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকে ১০ বার এবং দ্বিতীয় সিজদার তাসবীর পর ১০ বার, (১৫+১০+১০+১০+ ১০+ ১০+১০=৭৫) পড়বেন।
এভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকআতেও পড়বেন। প্রত্যেক রাকআতে ৭৫ বার এবং সব রাকআত মিলে মোট ৩০০ বার তাসবীহ্ পাঠ করতে হবে।

বি.দ্র. এছাড়াও আরও একটি নিয়মে এই নামায পড়া যায়। প্রসিদ্ধ হিসেবে আমরা এই নিয়মটি এখানে উল্লেখ করলাম।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

slieder

Featured Posts
August 2018
M T W T F S S
« Jul   Sep »
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
সর্বসত্ত্ব সত্বাধীকারী- শায়খ আফতাব উদ্দিন ফারুক Ⓒ